
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের গোয়াইনঘাটে দালালের খপ্পরে পড়ে সৌদি আরবে পাচার ও ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোছাঃ তাসলিমা বেগম (৪৫) নামে এক নারী। বর্তমানে তাকে জেদ্দায় একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দাবি করছে পাচারকারীরা। ভুক্তভোগী নারীকে অক্ষত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেছেন তার পরিবার।
ভুক্তভোগী তাসলিমা বেগম গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং চা বাগান এলাকার লাখেরপাড় গ্রামের বাসিন্দা আকবর আলীর স্ত্রী। এ ঘটনায় তার ছেলে মোঃ তারেকুল ইসলাম ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনের অনুলিপি গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবরও প্রদান করা হয়েছে।
আবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মার্চ (আবেদন অনুযায়ী ২০২৪/সম্প্রতি) স্থানীয় দালাল লিমন আহমদ, যিনি সিলেট নগরীর উপশহর এলাকার 'বিসমিল্লাহ ট্রাভেল্স' এর স্বত্বাধিকারী, তার মাধ্যমে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা খরচ করে 'খাদ্দামাহ' (গৃহকর্মী) ভিসায় সৌদি আরব যান তাসলিমা বেগম। দালালের পক্ষ থেকে লোভনীয় বেতনের চাকুরীর প্রলোভন দেখানো হয়েছিল।
অভিযোগ উঠেছে, সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর দালাল লিমন আহমদ তাকে কোনো কাজ না দিয়ে সেখানে অবস্থানরত একটি নারী ও শিশু পাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেয়। পাচারকারীরা তাকে একটি গোপন স্থানে আটকে রেখে প্রতিনিয়ত পাশবিক নির্যাতন চালাচ্ছে। সম্প্রতি পাচারকারীরা তাসলিমার পরিবারের কাছে টেলিফোনে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। এই টাকা বাংলাদেশে অবস্থানরত জনৈক দালালের মোবাইল নম্বরে (০১৩১৩-৭২১৭২৫) পাঠাতে বলা হয়েছে। টাকা না দিলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে পাচারকারীরা।
ভুক্তভোগী তাসলিমা বেগমের ছেলে তারেকুল ইসলাম বলেন, "আমার মাকে ভালো কাজের কথা বলে নিয়ে গিয়ে এখন সেখানে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তারা আমার মায়ের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছে। আমরা গরীব মানুষ, এতো টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। আমি আমার মাকে ফিরে পেতে বাংলাদেশ সরকার ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।"
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অসহায় পরিবারটি।